সাহাবায়ে কেরাম ও আহলে বাইত সম্পর্কিত আদাব
বিসমিল্লাহ
(সাহাবায়ে কেরাম ও আহলে বাইত সম্পর্কিত আদাব)
১. আম্বিয়ায়ে কেরামের পর, সাহাবায়ে কেরাম ও আহলে বাইত জগতের সবচেয়ে সম্মানিত আর শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাদেরকে মহব্বত করা ঈমানের অংশ।
২. আহলে বাইত বলে প্রথমত উম্মাহাতুল মুমিনীন উদ্দেশ্য। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তান-সন্ততি, মেয়েজামাই, নাতিনাতকুর।
৩. সাহাবায়ে কেরামকে আল্লাহর বাছাই করা, পাক্কা-সাচ্চা মুমিন বিশ্বাস করব।
৪. সাহাবায়ে কেরামকে আদেল-ইনসাফকারী বিশ্বাস করব। সাহাবায়ে কেরাম আদেল হওয়ার অর্থ, শরিয়তের বিধিবিধানের ব্যাপারে তাদেরকে সাক্ষ্যদানের উপযুক্ত মনে করা, তাদের কথাকে সত্যিকার সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা। ইসলামী শরিয়াত দাঁড়িয়ে আছেই সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা আর সাক্ষ্যের ওপর। হোক সেটা কুরআন বা হাদীস। আমরা সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনার মাধ্যমেই কুরআন ও হাদীস পেয়েছি। সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা ও সাক্ষ্য সঠিক মানতে গেলে অবধারিতভাবে তাদের ব্যক্তিত্বকেও আদেল মানতে হয়।
৫. সাহাবায়ে কেরামকে ‘মাহফুজ’-সুরক্ষিত বিশ্বাস করব। মাহফুজ মানে, মানবীয় প্রবৃত্তির তাড়নায় যদি কোনো সাহাবী কখনো কোনো ভুল করেও বসেন, আল্লাহ তাআলা তাদের আমলনামায় সেই ভুলের গুনাহ আখেরাত পযন্ত অবশিষ্ট রাখেননি, দুনিয়াতেই তাদের ভুলত্রুটি মাফ করে দিয়েছেন। ভুলের কারণে অবধারিত পরকালীন আযাব থেকে আল্লাহ সাহাবায়ে কেরামকে মাহফুজ করে নিয়েছেন। আম্বিয়ায়ে কেরাম মাসুম। মাসুম মানে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে গুনাহ করা থেকেই সুরক্ষিত রেখেছেন।
৬. সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম মেইয়ারে হক-সত্যের মাপকাঠি। মেইয়ারে হক মানে, আল্লাহ তাআলার কাছে ঐ ব্যক্তির আমল গ্রহণযোগ্য হবে, যার আমল সাহাবায়ে কেরামের আমলের সাথে মিলবে। কারো ঈমান-আমল সাহাবায়ে কেরামের মতো না হলে, তার ঈমান-আমল আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না। সে যত ভালো কাজই করুক, তাকে মুমিন বা নেককার বলা যাবে না।
৭. সমস্ত সাহাবী সমালোচনার উর্ধে, একথা বিশ্বাস করব। তাদের কোনো কথা বা কাজের এমনভাবে বিশ্লেষণ করতে যাবো না, যাতে তাদের ব্যক্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে বা তাদের মযাদাহানি ঘটে।
৮. সমস্ত সাহাবীকে জান্নাতি বিশ্বাস করব। একমুহূর্তের জন্যও কোনো সাহাবী জাহান্নামে দাখিল হবেন না। জাহান্নামের একফোঁটা ধোঁয়াও তাদের শরীরে লাগবে না। রোজহাশরে তারা আল্লাহর রহমতে সোজা জান্নাতে চলে যাবেন।
৯. সাহাবায়ে কেরামকে পরকালীন আযাব থেকে মাহফুজ বিশ্বাস করব।
১০. সমস্ত সাহাবীকে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠতম সন্তান বিশ্বাস করব। তাদের মতো অনুপম, পূণ্যবান মানবসন্তান পূর্ববর্তী কোনো উম্মতের মধ্যে সৃষ্টি হয়নি, কেয়ামত পযন্ত হবেও না। আম্বিয়ায়ে কেরামের পর সাহাবায়ে কেরামই আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি।
১১. সাহাবায়ে কেরামের ইজমা (সম্মিলিত ঐক্যমত্য-কে মাসুম-ভুলমুক্ত বিশ্বাস করব।
১২. সবসময় সাহাবায়ে কেরামের কল্যাণকর দিকগুলো আলোচনায় রাখব।
১৩. সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেয়া ও তাদের সমালোচনাকে হারাম বিশ্বাস করব।
১৪. সাহাবায়ে কেরামের প্রতি মহব্বত পোষণকে ঈমানের আলামত জানব।
১৫. সাহাবায়ে কেরামের সমালোচক ও দুশমনের সংশ্রব সযত্নে এড়িয়ে চলব।
১৬. খোলাফালে রাশিদিন চারজন। সাইয়িদুনা আবু বকর সিদ্দীক, সাইয়িদুনা ওমর ফারুক, সাইয়িদুনা উসমান যুন্নুরাইন ও সাইয়িদুনা আলি মুরতাজা। রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন।
১৭. সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবী সাইয়িদুনা আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু। তারপর পযায়ক্রমে তিন খলীফা।
১৮. সমস্ত সাহাবীর প্রতি গভীর মহব্বত ও পোক্ত আকীদত রাখব।
১৯. ঐতিহাসিক বর্ণনা শুনে বা পড়ে ভ্রান্তদলের মতো সাহাবায়ে কেরামের প্রতি কু-ধারণা পোষণ করব না।
২০. যখনই কোনো সাহাবীর নাম শুনব বা উচ্চারণ করব, পরম মহব্বতের সাথে তার জন্য দোয়া করব, রাদিয়াল্লাহু আনহু।
Comments
Post a Comment