শ্রম বিধিমালা, ২০১৫
রেজিস্টার্ড নং ডি এ-১
বাংলাদেশ
গণ প্রজাত
বাংলাদেশ
**
সরকার
অতিরিক্ত সংখ্যা
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ।
প্রজ্ঞাপন
গেজেট
তারিখ: ৩১ ভাদ্র, ১৪২২ বঙ্গাব্দ/১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫।—বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং
আইন) এর ধারা ৩৫১-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নরূপ বিধিমালা প্রণয়ন করিল, যথা:—
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
১। শিরোনাম ও প্রবর্তন।—(১) এই বিধিমালা বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ নামে
অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২। সংজ্ঞা (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই বিধিমালায়—
(ক) “আইন” অর্থ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২নং আইন);
(খ) “উপযুক্ত ব্যক্তি” অর্থ এই বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার বা মহাপরিদর্শক বা শ্রম
পরিচালক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মনোনীত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ;
(গ) “উত্তোলক যন্ত্র (Lifting machinery)” অর্থ ক্রেন (Crane), উইঞ্চ (Winche),
হয়েস্ট (Hoists), ডেরিক বুম (Derrick Boom), ডেরিক ও মাস্ট ব্যান্ড
(Derrick and Mast Band), গুজ নেক (Goose Neck), আইবোল্ট (Eyebolt),
স্প্রেডার (Spreader) এবং কোন প্রক্রিয়ার সহিত সম্পর্কিত উঠাইবার-নামাইবার
কাজে ব্যবহৃত ভারউত্তোলক (Derrick), মাস্তুল (Mast) এবং পাটাতন (Deck)
এর সহিত স্থায়ীভাবে সংস্থাপিত যন্ত্র;
( ৭৩১৫ )
মূল্য ঃ টাকা ২৮০.০০
৭৩১৬
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
(ঘ) “জাহাজ (Ship)” অর্থ সম্পূর্ণভাবে দাড়টানা নয় অথচ নৌ-পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত
যে কোন নৌ-যান, তবে কোন দেশি নৌকা বা বজরা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
“টেলিফোন সার্ভিস” অর্থ মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ও ল্যান্ড ফোন অপারেটর
প্রতিষ্ঠানসহ টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত সেবা প্রদানকারী কোন সার্ভিস;
(চ) “ঠিকাদার সংস্থা” অর্থ ধারা ৩ক এর অধীন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান যাহা কোন চুক্তির
অধীন কোন কাজ সম্পাদনকল্পে শ্রমিক সরবরাহ করে;
(ছ) “তদারকি কর্মকর্তা” অর্থ মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লিখিতভাবে
ক্ষমতাপ্রাপ্ত এমন কোন ব্যক্তি যিনি উক্ত ক্ষমতাবলে কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের কোন
শাখার কোন কাজের বা সেবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রণ, বাস্তবায়ন
কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, কাজের মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা, শ্রমিকদের দিক নির্দেশনা প্রদান বা
তদারকি করেন;
“তফসিল” অর্থ এই বিধিমালার কোন তফসিল;
“ধারা” অর্থ আইনের কোন ধারা;
(ঞ) “প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি” অর্থ মালিক বা
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি যিনি উক্ত ক্ষমতাবলে
কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক বা কর্মচারীদের নিয়োগ, বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ,
চাকরির অবসান বা চাকরি হইতে অপসারণ, চূড়ান্ত পাওনাদি পরিশোধ এবং
প্রতিষ্ঠানের ব্যয় অনুমোদন বা নিয়ন্ত্রণ কাজে নিয়োজিত;
“প্রক্রিয়া (Process)” অর্থ জাহাজে অথবা জাহাজের পাশে অবস্থানকৃত অন্য
জাহাজে মালামাল বা জ্বালানী বোঝাই করা বা জাহাজ হইতে মালামাল বা জ্বালানি বা
তেল জাতীয় পদার্থ খালাস করিবার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ এবং ইহার সহিত
আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ঠ) “প্রাঙ্গণ (Premises)” অর্থ ডক (Dock), ঘাট (Wharf), জেটি (Quay)
অথবা জাহাজে মাল বা জ্বালানি বা তেল জাতীয় পদার্থ উঠাইবার-নামাইবার কাজে
ব্যবহৃত কোন স্থান;
“পূলী ব্লক (Pulley block)” অর্থ ক্রেনের সহিত ব্যবহারের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্ত
এবং এই উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে নির্মিত ক্রেন বা ব্লক নয় এমন পূলী (Pulley), ব্লক
(Block), জিন (Gin) বা একই ধরনের গিয়ার;
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
“ফরম” অর্থ এই বিধিমালার কোন ফরম;
৭৩১৭
(ণ) “বোর্ড” অর্থ এই বিধিমালায় উল্লিখিত ক্ষেত্রমত, জামানত তহবিল পরিচালনা বোর্ড,
নিম্নতম মজুরি বোর্ড, কেন্দ্রীয় তহবিল পরিচালনা বোর্ড, শ্রমিক অংশগ্রহণ ও শ্রমিক
কল্যাণ তহবিল পরিচালনা বোর্ড, ভবিষ্য তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড, চা-বাগান শ্রমিক
ভবিষ্য তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড বা শিক্ষধীনতা কার্যক্রম পরিচালনা বোর্ড,
“সংবাদপত্র শ্রমিক” অর্থ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত কোন সাংবাদিক
প্রশাসনিক শ্রমিক অথবা সংবাদপত্র ছাপাখানা শ্রমিক;
(থ) “হ্যাচ” অর্থ প্রক্রিয়া চালানোর জন্য বা পরিপাটিকরণ বা বায়ু চলাচলের জন্য কোন
ডেকের মুখ;
“হ্যাচওয়ে” অর্থ ডকের উপর হইতে ভিতর পর্যন্ত হ্যাচের সবটুকু জায়গা;
(ধ) “হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পরিচালনাকারী” অর্থ কোন ব্যক্তি যিনি চুক্তি, লীজ বা অন্য
কোনভাবে অধিকারপ্রাপ্ত হইয়া কোন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করেন ।
(২) এই বিধিমালায় ব্যবহৃত হইয়াছে কিন্তু সংজ্ঞায়িত হয় নাই এইরূপ যে কোন
অভিব্যক্তি আইনে যে অর্থে সংজ্ঞায়িত হইয়াছে সেই অর্থে ব্যবহৃত হইবে।
৩।
দ্বিতীয় অধ্যায়
নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি
চাকরি বিধি দাখিল । (১) কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকদের বা বিশেষ শ্রেণির
শ্রমিকদের চাকরি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে নিজস্ব চাকরি বিধি প্রবর্তন করিতে চাহিলে তিনি মহাপরিদর্শকের
নিকট উক্ত চাকরি বিধির খসড়ার অন্তত পাঁচ কপি করিয়া জমা প্রদান করিবেন ।
(২)
মালিক কর্তৃক ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) মোতাবেক মহাপরিদর্শকের নিকট
দাখিলকৃত খসড়া চাকরি বিধিমালায় তাহার প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকদের চাকরির শর্তাবলির বিবরণ
থাকিতে হইবে এবং মহাপরিদর্শকের নিকট বিধিমালার খসড়া জমা প্রদান করিবার সময় উহার সহিত
এতদ্সংক্রান্ত তথ্য ফরম-১ অনুযায়ী সংযোজন করিতে হইবে।
(৩) খসড়া চাকরি বিধিতে আইন ও এই বিধিমালায় বর্ণিত সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের
প্রতিফলন থাকিতে হইবে এবং এই সকল বিধান কোন শ্রমিকের জন্য আইনে বর্ণিত অনুরূপ বিধান
অপেক্ষা কম সুবিধাজনক হইবে না ।
(8) মহাপরিদর্শকের নিকট পেশকৃত খসড়া চাকরি বিধির সহিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে
নিযুক্ত শ্রমিকদের সংখ্যা ও ট্রেড ইউনিয়নের (যদি থাকে) প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি যথাক্রমে ফরম-২ ও
২(ক) অনুযায়ী সংযোজন করিতে হইবে।
৭৩১৮
(৫)
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
একই মালিকের একই ধরনের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান অথবা একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের
ভিন্ন ভিন্ন মালিকগণের কোন গ্রুপ একটি চাকরি বিধি প্রণয়ন করিতে চাহিলে উক্ত মালিক বা মালিকগণ
বা গ্রুপের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলিসহ অনুরূপ খসড়া চাকরি বিধি পেশ করিতে
পারিবেন, যথা:—
উক্ত গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত মালিকদের তালিকা এবং তাহাদের প্রতিষ্ঠানসমূহের নাম ও পূর্ণ
ঠিকানা;
(খ) এই মর্মে একটি ঘোষণা যে, গ্রুপের পক্ষে পেশকৃত চাকরি বিধির শর্তাবলি তাহারা
মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবেন;
(গ) এই মর্মে একটি ঘোষণা যে, কোন প্রতিষ্ঠান অনুরূপ গ্রুপে যোগদান করিলে সংশ্লিষ্ট
দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে উহা পরিদর্শককে অবহিত করিবেন I
কোন প্রতিষ্ঠান গ্রুপ ত্যাগ করিলে যতক্ষণ পর্যন্ত না উহার নিজস্ব চাকরি বিধির
অনুমোদন সম্পন্ন হয় ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রুপের চাকরি বিধি উক্ত প্রতিষ্ঠানের উপর প্রযোজ্য থাকিবে।
(৭) অনুমোদিত চাকরি বিধির অন্যূন একটি কপি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক
অনুমোদনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত উক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রেরণ করিতে
হইবে ।
81 চাকুরি বিধি অনুমোদন পদ্ধতি।— (১) খসড়া চাকরি বিধি প্রাপ্তির ১০ (দশ)
দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক উহার কপি প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের
মালিক এবং ট্রেড ইউনিয়ন (যদি থাকে) এর নিকট প্রেরণ করিবেন এবং এতদ্সঙ্গে ফরম-৩ অনুযায়ী
একটি নোটিসও প্রেরণ করিবেন
(২) সংশ্লিষ্ট মালিক উক্ত নোটিস পাইবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে খসড়া চাকরি বিধিসহ
নোটিসটি তাহার প্রতিষ্ঠানের নোটিস বোর্ডে টাঙ্গাইয়া দিবেন এবং উহা প্রকাশের তারিখ উল্লেখসহ
নোটিসটি প্রকাশ করা হইয়াছে মর্মে মহাপরিদর্শক বরাবরে প্রত্যয়ন করিবেন।
(৩)
নোটিশে সংযুক্ত চাকরি বিধির খসড়ার উপর শ্রমিকগণ বা ট্রেড ইউনিয়ন
১০ (দশ) দিনের মধ্যে তাহাদের প্রস্তাব বা আপত্তি (যদি থাকে) ফরম-৩(ক) অনুযায়ী মহাপরিদর্শকের
নিকট যুক্তিসহ পেশ করিবেন ।
(8)
শ্রমিকগণের বা ট্রেড ইউনিয়নের নিকট হইতে আপত্তি বা প্রস্তাব পাইবার
১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক নির্ধারিত তারিখে ও স্থানে আপত্তি বা প্রস্তাবগুলি শ্রবণ করিবেন
এবং তাহার নিকট কোন আপত্তি বা প্রস্তাব যুক্তিযুক্ত মনে হইলে তিনি উক্তরূপ শুনানি অনুষ্ঠানের
পরবর্তী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে মালিকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৫)
মালিক উপ-বিধি (৪) এর অধীন প্রাপ্ত আপত্তি বা প্রস্তাবনার উপর পরবর্তী
১০ (দশ) দিনের মধ্যে তাহার প্রতিষ্ঠানের মতামত মহাপরিদর্শককে অবহিত করিবেন।
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
৭৩১৯
মহাপরিদর্শক উপ-বিধি (৫) এর অধীন প্রাপ্ত মতামত বিবেচনার পর খসড়া চাকরি
বিধি প্রস্তাবিত সংশোধনীসহ বা ব্যতীত গৃহীত হইবে কিনা সে সম্পর্কে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীসহ চাকরি বিধির খসড়া চূড়ান্তকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত
হইলে সেই ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক গৃহীত সংশোধনীসমূহ অন্তর্ভুক্ত করিয়া চাকরি বিধির সংশোধিত
খসড়ার ৫ (পাঁচ) কপি পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে জমা প্রদান করিবার জন্য মালিককে নির্দেশ
প্রদান করিবেন ।
(৭)
উপ-বিধি (৬) এর অধীন সংশোধিত খসড়া প্রাপ্তির পর মহাপরিদর্শক উহা
অনুমোদন করিবেন এবং অনুমোদনের বিষয়টি মালিককে অবহিত করিবেন ।
(b) সংশোধনীসহ বা ব্যতীত, যাহাই হউক না কেন, মহাপরিদর্শক যদি মনে করেন
যে, খসড়া চাকরি বিধিটি আইনের বিধানের পরিপন্থি বা সাংঘর্ষিক হইয়াছে বা আইনের উদ্দেশ্য পূরণে
অপর্যাপ্ত হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ একটি নূতন খসড়া চাকরি বিধি পেশ
করিবার জন্য মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৯)
মালিক উপ-বিধি (৮) অনুসারে একটি নূতন খসড়া চাকরি বিধি পরবর্তী ৭ (সাত)
দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শকের নিকট পুনরায় পেশ করিবেন এবং মহাপরিদর্শক উহার উপর সংশ্লিষ্ট
পক্ষসমূহের বক্তব্য একত্রে শ্রবণ করিবার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।
(১০) মহাপরিদর্শকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এতদ্সংক্রান্ত আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ)
দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপিল করা যাইবে এবং সরকার উহা দায়েরের ৪৫ (পয়তাল্লিশ)
দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে।
(১১) মহাপরিদর্শক কর্তৃক খসড়া চাকরি বিধি অনুমোদনের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে
মালিক উক্ত চাকরি বিধির অন্যূন ৫ (পাঁচ) কপিতে যথাযথভাবে স্বাক্ষর ও তারিখ প্রদান করত
সীলমোহরাঙ্কিত করিয়া মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিবেন
(১২) উপ-বিধি (১১) এর অধীন প্রাপ্ত কপিতে মহাপরিদর্শক স্বাক্ষর প্রদানপূর্বক
সীলমোহরাঙ্কিত করিবেন।
(১৩) উপ-বিধি (১২) অনুসারে মহাপরিদর্শক কর্তৃক স্বাক্ষরান্তে সীলমোহরাঙ্কিত করিবার
তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত অথবা ধারা ৩ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন
মহাপরিদর্শকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হইলে উক্ত আপিল সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত না
হওয়া পর্যন্ত, চাকরি বিধি কার্যকর হইবে না ।
(১৪) চাকরি বিধির একটি মূল কপি মহাপরিদর্শক নিজ দপ্তরে সংরক্ষণ করিবেন এবং
একই উদ্দেশ্যে শ্রম পরিচালক, মালিক এবং যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ), যদি থাকে, এর
বরাবরে একটি করিয়া কপি প্রেরণ করিবেন।
(১৫)
করিতে হইবে।
(১৬)
মহাপরিদর্শকের দপ্তরে এতদ্সংক্রান্ত একটি রেজিস্টার ফরম-৪ অনুযায়ী সংরক্ষণ
কোন ব্যক্তি বা সংগঠন বা কোন কর্তৃপক্ষ মহাপরিদর্শকের দপ্তরে ফটোকপি
করিবার প্রকৃত খরচের অর্থ প্রদান করিলে ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে চাকরি বিধির অবিকল নকল
প্রদান করিতে হইবে ।
৭৩২০
৫ ৷
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
প্রচলিত চাকরি বিধি। (১) যে সকল প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব চাকরি বিধি প্রচলিত
রহিয়াছে সে সকল প্রতিষ্ঠানের মালিক এই বিধিমালা জারি হইবার তিন মাসের মধ্যে উহা আইন এবং
এই বিধিমালার সহিত সামঞ্জস্য সাধন করিয়া প্রস্তুতকৃত খসড়া অনুমোদনের জন্য মহাপরিদর্শকের
নিকট পেশ করিবেন ।
(২)
উপ-বিধি (১) এর অধীন চাকরি বিধি দাখিলের ক্ষেত্রে বিধি ৩ এর বিধান এবং
উহা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিধি ৪ এর বিধান, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিতে হইবে।
৬।
চাকরি বিধি সংশোধন।—চাকরি বিধির সংশোধনের ক্ষেত্রে বিধি ৩ ও ৪ এ
উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।
৭।
ঠিকাদার সংস্থার রেজিস্ট্রেশন এবং লাইসেন্স মঞ্জুরির আবেদন, ইস্যুকরণ ও
নবায়ন (১) কোন ঠিকাদার সংস্থা কর্তৃক কোন সংস্থায় কর্মী সরবরাহ করিবার লক্ষ্যে কার্যক্রম
পরিচালনার উদ্দেশ্যে রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স গ্রহণের জন্য মহাপরিদর্শকের নিকট ফরম-৭৭ অনুযায়ী
আবেদন করিতে হইবে ।
(২)
উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন পত্রের সহিত নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র ও তথ্যাদি
দাখিল করিতে হইবে, যথা:—
(ক) আবেদনকারীর ৫ (পাঁচ) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (আবেদনকারী কোম্পানি,
প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি সংঘ, অংশীদারি কারবার, সংঘ ও সমিতি হইলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে
সকল পরিচালক ও অংশীদারদের ছবি);
(খ) আবেদনকারীর নাগরিকত্ব সনদপত্র (আবেদনকারী কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি-সংঘ,
অংশীদারি কারবার, সংঘ ও সমিতি হইলে প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে সকল পরিচালক ও
অংশীদারদের);
(গ) আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি (আবেদনকারী কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান,
ব্যক্তি-সংঘ, অংশীদারি কারবার, সংঘ ও সমিতি হইলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সকল
পরিচালক ও অংশীদারদের) তবে আবেদনকারী বিদেশি নাগরিক হইলে বৈধ
পাসপোর্ট ও বসবাসের বৈধ কাগজের কপি;
(ঘ) ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি;
(ঙ) টি, আই, এন, সনদপত্র (Tax Identification Number - Certificate) এর
সত্যায়িত কপি;
(চ)
মূল্য সংযোজন কর রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি;
(ছ) আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ স্বরূপ ব্যাংকের সনদপত্র;
(জ) আবেদনকারী কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি-সংঘ, অংশীদারি কারবার, সংঘ ও সমিতি
হইলে ক্ষেত্রমত উহার অংশীদারি দলিল বা মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন ও
আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশনের সত্যায়িত কপি এবং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের
সত্যায়িত কপি;
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
৭৩২১
(ঝ) মহাপরিদর্শকের অনুকূলে জামানত হিসাবে তফসিল-৭ এ নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ
সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যংক হিসাবে জমা রাখিতে হইবে;
(ঞ) বিধি ১০ অনুসারে প্রদত্ত লাইসেন্স ফি-এর ব্যাংক-ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি
চালানপত্র;
(ট) বেসরকারি সেবা প্রদানকারী বা কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাসহ অবস্থান ও
অফিস ব্যবস্থাপনার বিবরণ;
(ঠ) যোগাযোগের আধুনিক যন্ত্রপাতি, যেমন- ফ্যাক্স, ফোন, ইন্টারনেট সংযোগ, ইত্যাদির
তালিকাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সনদপত্র; এবং
৬
যে ধরনের পদে লোক সরবরাহ করিতে ইচ্ছুক, উক্ত পদের জন্য প্রয়োজনীয়
দক্ষতামূলক নিজস্ব প্রশিক্ষণ সুবিধার ব্যবস্থা অথবা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রদানে
সক্ষম এমন অন্য কোন অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থার সহিত চুক্তি (যদি
থাকে)।
(৩) উপ-বিধি (১) এর অধীন আবেদনপ্রাপ্ত হইলে মহাপরিদর্শক প্রাপ্ত আবেদনে
উল্লিখিত তথ্যাবলির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য তাহার অধস্তন কোন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অর্পণ করিয়া
লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আবেদনকারীর
প্রাক-পরিচিতি পুলিশের জেলা বিশেষ শাখা বা নগর বিশেষ শাখা বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যে
কোন উপযুক্ত সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করিতে পারিবে।
(8) উপ-বিধি (৩) এর অধীন নির্দেশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লিখিত স্থান
সরেজমিনে পরিদর্শন করিবেন এবং প্রাপ্ত তথ্যাবলি পরীক্ষা ও যাবতীয় বিষয়ে অনুসন্ধান করিবার পর
তদ্বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মহাপরিদর্শকের নিকট দাখিল করিবেন।
(৫) উপ-বিধি (৪) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর মহাপরিদর্শক সন্তুষ্ট হইলে
লাইসেন্স প্রদানের আবেদন মঞ্জুর করিবেন অথবা ক্ষেত্রমত নামঞ্জুর করিয়া আবেদনকারীকে অবহিত
করিবেন।
(৬) এই বিধিমালার অধীন লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ, লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন
বা নামঞ্জুর করিবার ক্ষমতা মহাপরিদর্শক তাহার অধস্তন কোন কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করিতে পারিবে
না।
(৭) উপ-বিধি (৫) এর অধীন কোন আবেদন মঞ্জুর করা হইলে ফরম-৭৮ অনুযায়ী
লাইসেন্স ইস্যু করিতে হইবে এবং এতদ্সম্পর্কিত তথ্যাদি ফরম-৭৯ অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ
করিতে হইবে।
(৮)
ঠিকাদার সংস্থার লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন এবং লাইসেন্স প্রদানের যাবতীয়
কার্যক্রম ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন লাইনে সম্পাদন করা যাইবে, তবে এতদ্সংক্রান্ত মুদ্রিত নথি
সংরক্ষণ করিতে হইবে ।
৭৩২২
৮।
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
লাইসেন্স গ্রহীতা ও সেবা গ্রহণকারীর উপর বাধা-নিষেধ।—(১) লাইসেন্স গ্রহীতা,
মহাপরিদর্শকের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে, কোন কর্মীর নিকট হইতে সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করিতে পারিবে না ।
(2) ঠিকাদার সংস্থা ও সেবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির কোন শর্ত
ভঙ্গের বিষয়ে পক্ষদ্বয় লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বরাবর নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করিতে পারিবে।
(৩) ঠিকাদার সংস্থা ও কর্মীর মধ্যে সম্পাদিত চাকরির নিয়োগপত্রে আইনে বর্ণিত
শর্তাদি অপেক্ষা কম অনুকূল শর্তাদি সন্নিবেশ করা যাইবে না ।
(8) যে সকল সংস্থায় শ্রমিক সরবরাহ করা হইয়াছে উহার তথ্য ঠিকাদার সংস্থা
ফরম-৫ অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিবে।
৯।
লাইসেন্স গ্রহীতার জামানত বাজেয়াপ্তি বা ফেরত।—(১) এই বিধিমালার অধীন
কোন ঠিকাদার সংস্থা কর্তৃক সেবা প্রদান করিবার ক্ষেত্রে কোনরূপ প্রতারণামূলক কার্যক্রম অথবা
দাখিলকৃত তথ্যাদি ভুল প্রমাণিত হইলে বা নিরাপত্তা জামানত ব্যতিরেকে অন্য কোনভাবে অর্থের
বিনিময়ে কর্মী নিয়োগ করা হইলে উক্ত অভিযোগ প্রমাণ হওয়া সাপেক্ষে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত জামানত
সরকার বরাবরে বাজেয়াপ্ত হইবে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
(2) কোন লাইসেন্স গ্রহীতা তাহার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করিলে তৎকর্তৃক প্রদত্ত
জামানতের টাকা, উক্ত কার্যক্রম বন্ধ করিবার ৩ মাস সময়ের মধ্যে তত্বরাবরে বা তৎকর্তৃক মনোনীত
প্রতিনিধিকে ফেরত প্রদান করা যাইবে ।
১০। লাইসেন্স ফি, নবায়ন ফি, ইত্যাদি নির্ধারণ।—(১) মহাপরিদর্শক লাইসেন্স
প্রদানের আবেদন মঞ্জুর করিলে উক্ত মঞ্জুরের তারিখ হইতে ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত
পরিমাণ লাইসেন্স ফি জমা প্রদান করিতে হইবে।
(2)
লাইসেন্স নবায়নের জন্য বিধি ৩৫৫(৩) এর বিধান অনুযায়ী মহাপরিদর্শকের
নিকট আবেদন করিতে হইবে।
জামানত, লাইসেন্স ফি ও লাইসেন্স নবায়নের ফি তফসিল-৭(৬) অনুযায়ী
নির্ধারিত হইবে এবং ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিতে হইবে।
(8)
ঠিকাদার সংস্থা একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং ধারা ৩১৯ এ
মহাপরিদর্শক ও অন্যান্য পরিদর্শকদের পরিদর্শন সংক্রান্ত এখতিয়ার ঠিকাদার সংস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য
হইবে।
১১। জামানত, জামানত তহবিল পরিচালনা বোর্ড, বিনিয়োগ, শ্রমিকের আইনানুগ
পাওনা পরিশোধ, ইত্যাদি।(১) লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য প্রত্যেক ঠিকাদার সংস্থাকে জামানত হিসাবে
নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ “ঠিকাদার সংস্থা জামানত তহবিল” বরাবরে জমা প্রদান করিতে হইবে।
জামানতের অর্থ তফসিল-৭ এর দফা-৬ অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।
(২)
(৩)
ঠিকাদার সংস্থা জামানত তহবিল পরিচালনার জন্য নিম্নবর্ণিত সদস্যের সমন্বয়ে
“ঠিকাদার সংস্থা জামানত তহবিল পরিচালনা বোর্ড” নামে একটি বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:—
(ক) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী; যিনি ইহার
চেয়ারম্যানও হইবেন;
(খ) সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; যিনি ইহার ভাইস চেয়ারম্যানও হইবেন;
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
৭৩২৩
(গ) মহাপরিদর্শক; যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন;
(ঘ) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
(ছ)
(8)
সরকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সহিত যুক্ত মালিক পক্ষের তিনজন
প্রতিনিধি;
সরকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট সেক্টরে কর্মরত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের তিনজন
প্রতিনিধি; এবং
সরকার কর্তৃক মনোনীত দুইজন কর্মকর্তা বা বিশিষ্ট ব্যক্তি ।
জামানতের অর্থ মহাপরিদর্শক বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক
অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখিবে ।
(৫) সরকার প্রয়োজন মনে করিলে জামানতের অর্থ সরকারি মালিকানাধীন
বিনিয়োগযোগ্য কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে I
(৬) জামানতের অর্থ অথবা বিনিয়োগকৃত অর্থ হইতে প্রাপ্ত মুনাফা দ্বারা সংশ্লিষ্ট সেক্টরে
কর্মরত কোন শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা, তাহার আবেদনের প্রেক্ষিতে উহা যাচাইপূর্বক, পরিশোধ
করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক বা তাহার উত্তরাধিকারীকে এই ধরনের পাওনাদি
পরিশোধ করা যাইবে এবং যদি উহা জামানতের অর্থ হইতে প্রদান করা হয় তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট
ঠিকাদার সংস্থা উক্ত তহবিলে সেই পরিমাণ অর্থ অনতিবিলম্বে পুনঃভরণ করিবে।
১২। ঠিকাদার সংস্থা জামানত তহবিল পরিচালনা বোর্ডের সদস্যের মেয়াদ ও
পদত্যাগ।—(১) ঠিকাদার সংস্থা জামানত তহবিল পরিচালনা বোর্ডের সদস্যগণের মেয়াদ হইবে
তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ২ (দুই) বৎসর।
(2)
যে কোন সদস্য চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে
পারিবেন এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক উহা গৃহীত হইবার তারিখ হইতে উক্ত পদটি শূন্য বলিয়া গণ্য
হইবে।
১৩।
সদস্যের অযোগ্যতা।
যদি-
কোন ব্যক্তি বিধি ১১ এর অধীন বোর্ডের সদস্য হইবার
বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না,
উপযুক্ত আদালত তাহাকে অপ্রকৃতিস্থ বা দেউলিয়া বলিয়া ঘোষণা করে;
(খ) তিনি ইতিপূর্বে পরপর দুইবার বোর্ডের সদস্য হিসাবে মনোনীত হইয়া থাকেন;
(গ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক অন্যূন
১(এক) বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বৎসর
অতিবাহিত না হইয়া থাকে; এবং
(ঘ) তিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতীত বোর্ডের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত
থাকেন।
৭৩২৪
১৪।
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
সদস্যের অপসারণ। বোর্ড, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে, বোর্ডের যে কোন
সদস্যকে লিখিত আদেশ দ্বারা অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি
(ক) তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন;
(খ) সরকারের বিবেচনায় উক্ত দায়িত্ব সম্পাদনে অক্ষম বিবেচিত হন; এবং
(গ) সরকারের বিবেচনায় সদস্য হিসাবে তাহার পদের অপব্যবহার করিয়া থাকেন ।
১৫।
কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিমালার অনুমোদন।—(১) লাইসেন্সের আবেদনের শর্ত
হিসাবে প্রদত্ত কর্মী নিয়োগ বিধিমালার তিন কপি আবেদনপত্রের সহিত সংযুক্ত করিয়া মহাপরিদর্শকের
নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং মহাপরিদর্শক উহা অনুমোদনের পর এক কপি করিয়া
সীলমোহরসহ আবেদনকারী এবং শ্রম পরিচালক বরাবর প্রেরণ করিবেন ।
(২)
উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক বিধি ৪ এ
বিধৃত চাকরি বিধিমালা অনুমোদনের বিধানাবলি অনুসরণ করিবে।
১৬। নিযুক্ত প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত শ্রমিক বা কর্মীর মজুরির মানদণ্ড ও প্রাপ্য
সুবিধাদি।—(১) ঠিকাদার সংস্থা যে প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক বা কর্মী বা সেবা সরবরাহ করিবে উক্ত প্রতিষ্ঠান
যে শিল্পের অন্তর্ভুক্ত, উক্ত শিল্পের সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির (যদি থাকে)
অপেক্ষা কম মজুরি ও ভাতাদি প্রদান করিতে পারিবে না ।
(২) কোন ঠিকাদার সংস্থা যদি কোন প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কোন কাজ সম্পাদনের জন্য
চুক্তি করে সেই ক্ষেত্রে উক্ত কাজ সম্পাদনের জন্য ঠিকাদার সংস্থা কর্তৃক নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মীদের
ক্ষেত্রে মজুরি, কর্মঘন্টা, বিশ্রাম, অধিকাল ভাতা, ছুটি, বিষয়ে আইনের বিধানাবলি অনুসরণ করিতে
হইবে।
(৩)
ঠিকাদার সংস্থাকে এই মর্মে নিশ্চিত হইতে হইবে যে, যে প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক বা
কর্মী সরবরাহ করা হইতেছে, উহা কর্মক্ষেত্রে আইনের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল
বিধি-বিধান অনুসরণ করিয়া পরিচালিত হয়।
(8) উপ-বিধি (৩) এ উল্লিখিত নিশ্চয়তা লাভে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে আইনের
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন ব্যত্যয় ঘটিলে আইনের বিধান সমভাবে মালিক ও ঠিকাদার
সংস্থা উভয়ের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য হইবে।
(৫) ঠিকাদার সংস্থা ও শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে প্রত্যেক
শ্রমিক বা কর্মীর জন্য যে মজুরি ও ভাতাদি ধার্য করা হইবে উহার চাইতে কম মজুরি ও ভাতাদি প্রদান
করা যাইবে না এবং শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান উহার স্থায়ী জনবল কাঠামোর কোন পদে ঠিকাদার
সংস্থার মাধ্যমে কোন শ্রমিক বা কর্মী নিয়োগ করিতে পারিবে না ।
১৭। কর্মীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা তহবিল।—–(১) প্রত্যেক ঠিকাদার সংস্থাকে
লাইসেন্স প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে উক্ত সংস্থার নামসম্বলিত ‘কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল' নামে যে
কোন তফসিলি ব্যাংকে একটি ব্যাংক হিসাব শুরু করিতে হইবে ।
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
৭৩২৫
(২) ব্যাংক হিসাবে ঠিকাদার সংস্থায় নিয়োগকৃত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত
প্রত্যেক কর্মীর বিপরীতে কর্মীর প্রতি সম্পূর্ণ বৎসরের চাকরির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য এক মাসের
মূল মজুরির সমপরিমাণ অর্থ অথবা ধারা ২(১০) অনুসারে গ্রাচুইটি (যদি প্রযোজ্য হয়) হিসাবে জমা
রাখিতে হইবে; যাহা শুধুমাত্র কর্মীর চাকরি যে কোন ধরনের অবসানে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা
গ্রাচুইটির অর্থ পরিশোধের অংশ হিসাবে কর্মীকে সরাসরি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করিতে হইবে।
(৩)
জারি করিবে।
তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খোলা ও পরিচালনার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা
১৮ । শ্রমিকগণের শ্রেণি বিভাগ। প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের জন্য চাকরি
বিধিমালার সহিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) প্রণয়ন করিবে এবং উহা মহাপরিদর্শক কর্তৃক
অনুমোদিত হইতে হইবে এবং উক্ত সাংগঠনিক কাঠামোতে শ্রমিকের শ্রেণি, সংখ্যা ও প্রকৃতি উল্লেখ
করিতে হইবে।
১৯।
নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং গোপনীয়তা রক্ষাকরণ
নিয়োগপত্র প্রদান না করিয়া কোন শ্রমিককে নিয়োগ করিতে পারিবেন না ।
(১) কোন মালিক
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরিকালীন কোন ব্যক্তিকে কেবল একবার নিয়োগপত্র প্রদান
করিতে পারিবে।
(3) কোন শ্রমিকের নিয়োগপত্র হারাইয়া গেলে বা নষ্ট হইলে শ্রমিকের আবেদনের
প্রেক্ষিতে তাহার ব্যক্তিগত ফাইলে রক্ষিত নিয়োগপত্রের ফটোকপি বা হুবহু নকল সরবরাহ করা
যাইবে।
(8)
থাকিবে, যথা :—
ধারা ৫ মোতাবেক শ্রমিককে প্রদত্ত নিয়োগপত্রে নিম্নবর্ণিত তথ্যের উল্লেখ
(ক) শ্রমিকের নাম;
(খ) পিতার নাম;
(গ) মাতার নাম;
(ঘ) স্বামী বা স্ত্রীর নাম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
ঠিকানা : বর্তমান:
স্থায়ী:-
(চ) পদবি, কাজের ধরন, যোগদানের তারিখ;
ছ
শ্রমিকের শ্রেণি;
S
মজুরি বা বেতন স্কেল (মজুরি বা বেতন এবং বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির হার যদি
থাকে);
(ঝ) অন্যান্য প্রদেয় আর্থিক সুবিধা (বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, খাদ্য, যাতায়াত, উৎসব
ও হাজিরা ভাতা এবং গ্রাচুইটি (যদি থাকে); এবং
(ঞ) নিয়োগের যাবতীয় শর্ত প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান চাকরি বিধি (যদি থাকে) ও বিদ্যমান শ্রম
আইন অনুযায়ী পরিচালিত হইবে মর্মে উল্লেখ ।
৭৩২৬
(৫)
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রত্যেক শ্রমিককে ফরম-৬ অনুযায়ী
মালিকের খরচে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করিবেন ।
(৬)
শ্রমিক পরিচয়পত্র হারাইয়া ফেলিলে ৫০ টাকা ফি পরিশোধ সাপেক্ষে নূতন
পরিচয়পত্র প্রদান করা যাইবে ।
নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বহি প্রদান সম্পর্কিত তথ্য রেজিস্টারে
ফরম-৬(ক) অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে ।
(৮) এই বিধিমালায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত
কোন শ্রমিক বা প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনকালে বা
চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কৌশলের গোপনীয়তা সংরক্ষণ করিবেন ।
২০।
সার্ভিস বহি, আকার ও তথ্যের বিভাজন।(১) সার্ভিস বহি ফরম-৭ অনুযায়ী
হইবে এবং উহাতে শক্ত মলাটসহ টেকসই কাগজের ১৬ টি মুদ্রিত পৃষ্ঠা থাকিতে হইবে ।
ফরম-৭ অনুযায়ী সার্ভিস বহিতে তথ্যসমূহ অন্তর্ভুক্তিকরণের উদ্দেশ্যে উহার মলাট
ব্যতীত পৃষ্ঠাসমূহ নিম্নবর্ণিত অংশে বিভক্ত থাকিবে, যথা:—
(২)
ক প্ৰথম ভাগঃ
শ্রমিককে সনাক্ত করিবার মত তথ্যসমূহ (পৃষ্ঠা- ১);
সার্ভিস রেকর্ড, মজুরি ও ভাতা সংক্রান্ত তথ্যসমূহ
(খ)
দ্বিতীয় ভাগঃ
মালিকের ও চাকরির তথ্যসমূহ (পৃষ্ঠা, ২-৫);
(গ)
তৃতীয় ভাগঃ
(পৃষ্ঠা ৬-৯);
(ঘ) চতুর্থ ভাগঃ
ভোগকৃত ছুটির বিবরণ (পৃষ্ঠা ১০-১৩);
২১।
(ঙ) পঞ্চম ভাগঃ
শ্রমিকের আচরণের রেকর্ড (পৃষ্ঠা ১৪-১৬)।
সার্ভিস বহিতে তথ্য অন্তর্ভুক্তি। ।—(১) স্থায়ীকরণের তারিখ হইতে এক মাসের
মধ্যে মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ তাহার সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ করিবেন ।
(২) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঘটনা সংঘটনের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে শ্রমিকের
পরবর্তী বা নূতন তথ্য সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে, যথা:—
(ক) বেতনের স্কেল বা মজুরির হার পরিবর্তন;
(খ) একই প্রতিষ্ঠানের অন্য শাখায় বা ভিন্ন চাকরিতে অথবা একই মালিকের ভিন্ন
প্রতিষ্ঠানে বদলি;
(গ) শ্রমিক কর্তৃক কোন প্রশিক্ষণ গ্রহণ বা কোন বিশেষ দক্ষতা অর্জন;
(ঘ) বার্ষিক ছুটি ভোগ করা বা নগদায়ন;
চাকরি হইতে ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অবসান, পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ;
(চ) কোন জরিমানা বা দণ্ড আরোপ এবং পুরস্কার প্রদান বা প্রশংসা জ্ঞাপন :
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের বিরুদ্ধে আনীত কোন অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত না
হওয়া পর্যন্ত উহা সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ করা যাইবে না ।
২২।
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
৭৩২৭
সার্ভিস বহি সরবরাহ, জমা প্রদান ও অবিকল নকল (Duplicate) সার্ভিস বহি
সরবরাহ।—(১) কোন শ্রমিক নিয়োগ বা শিক্ষানবিশকাল সমাপ্ত হইবার ১৫ দিনের মধ্যে মালিক
প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য আলাদা আলাদা সার্ভিস বহি খুলিবার ব্যবস্থা করিবেন ও উহাতে সংযোজনের
জন্য শ্রমিকের ছবি উঠাইবার ব্যয় মালিক বহন করিবেন।
(২)
শ্রমিক চাকরিতে যোগদানকালে তাহার পূর্বের চাকরির সার্ভিস বহি, যদি থাকে,
মালিকের নিকট জমা প্রদান করিবেন এবং মালিক তাহাকে ফরম-৭(ক) অনুযায়ী একটি রসিদ প্রদান
করিবেন।
(৩) কোন শ্রমিক নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট সার্ভিস বহির মূল্য বাবদ ২০/- (বিশ)
টাকা নগদে জমা প্রদান করিয়া অবিকল নকল সার্ভিস বহি নিজের হেফাজতে সংরক্ষণ করিতে
পারিবেন।
(8)
(৫)
উপ-বিধি (৩) এ উল্লিখিত সার্ভিস বহিতে ‘অবিকল নকল’ কথাটি লেখা থাকিবে ।
কোন শ্রমিক কর্তৃক উপ-বিধি (৩) এ উল্লিখিত টাকা জমা প্রদান করিবার
৭ (সাত) দিনের মধ্যে মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অবিকল নকল সার্ভিস বহি প্রদান করিবেন।
(৬) শ্রমিকের নিকট সংরক্ষিত সার্ভিস বহি হারাইয়া গেলে বা নষ্ট হইয়া গেলে
তৎক্ষণাৎ উহা লিখিতভাবে মালিককে অবহিত করিতে হইবে, এবং সেই ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক নগদে
৩০/- (ত্রিশ) টাকা কর্তৃপক্ষের নিকট জমা প্রদান করিয়া পুনরায় অবিকল নকল একটি সার্ভিস বহি
সংগ্রহ করিতে পারিবে ।
(৭)
কোন শ্রমিকের চাকরি অবসানের দুই কর্মদিবসের মধ্যে মালিক সার্ভিস বহি
ফেরত প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধের সময় শ্রমিককে উক্ত সার্ভিস বহি
সঙ্গে আনিয়া উহাতে উক্ত পাওনা পরিশোধের তথ্য লিপিবদ্ধ করাইয়া লইতে হইবে ।
(৮)
শ্রমিককে সার্ভিস বহি প্রদানকালে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করিলে উহার একটি ডুপ্লিকেট
কপি তাহার ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করিতে পারিবেন।
(৯)
সার্ভিস বহি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যাইবে এবং সেই ক্ষেত্রে শ্রমিককে
কপি সরবরাহ করিতে হইবে।
২৩।
শ্রমিক রেজিস্টার।(১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল শ্রেণির শ্রমিকের
জন্য একটি শ্রমিক রেজিস্টার ফরম-৮ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং উহা শ্রমিকের শ্রেণিবিভাগ
অনুযায়ী বিন্যস্ত থাকিবে ।
(২)
রেজিস্টারে সকল বিবরণ বাংলায় অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে এবং খ্রিস্টিয় বর্ষপঞ্জি
অনুসারে তারিখ লিখিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করিলে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও
রেজিস্টার সংরক্ষণ করিতে পারিবে।
৭৩২৮
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
যদি কোন প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ধারিত ফরমে শ্রমিক রেজিস্টার
সংরক্ষণ করে তাহা হইলে উহার মুদ্রিত কপি শ্রমিক রেজিস্টার বলিয়া গণ্য হইবে।
২৪।
ছুটির রেজিস্টার।—(১) ধারা ১০ মোতাবেক ছুটির রেজিস্টার ফরম-৯ অনুযায়ী
রক্ষিত হইবে এবং উহাতে ধারা ১১৫, ১১৬ ও ১১৭-তে বর্ণিত ছুটির হিসাব লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
কোন প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ধারিত ফরমে ছুটির রেজিস্টার সংরক্ষণ
(2)
করিলে উহা ছুটির রেজিস্টার বলিয়া গণ্য হইবে ।
(৩)
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছুটির রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হইলে ইহার মুদ্রিত কপি
সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের ব্যক্তিগত নথিতে সন্নিবেশিত করিতে হইবে।
২৫।
পরিদর্শককে লে-অফ বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ সংক্রান্ত নোটিস প্রদান। (১) ধারা ১২
এর উপ-ধারা (৮) অনুযায়ী কোন শ্রমিককে লে-অফ করা হইলে অথবা ধারা ১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান
বন্ধ করা হইলে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্থ ও কর্মহীন শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখসহ উক্তরূপ লে-অফ বা বন্ধের
নোটিস ও ফরম-১০ অনুযায়ী একটি বিবরণী অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিতে
হইবে।
(২)
লে-অফকৃত প্রতিষ্ঠান বা কারখানার লে-অফ বা বন্ধ ৪৫ দিনের অধিক হইলে
ধারা ২০ মোতাবেক সকল পাওনা পরিশোধপূর্বক শ্রমিকদেরকে ছাঁটাই করা যাইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠান বা কারখানা ধারা ১৩ এর অধীন বন্ধ হইলে কোন
শ্রমিক ধারা ২০ (২)(ক) অনুয়ায়ী নোটিস বা নোটিশের পরিবর্তে মজুরি পাইবে না ।
(৩)
লে-অফকৃত বা সাময়িকভাবে বন্ধকৃত কোন কারখানা বা প্রতিষ্ঠান শ্রমিকের
আইনানুগ যাবতীয় পাওনা পরিশোধ না করিয়া অন্য কোন মালিকের নিকট বা সংস্থার নিকট লীজ
প্রদান বা ভাড়ার চুক্তি করিয়া উৎপাদন বা সেবা প্রদান প্রক্রিয়ার সহিত যুক্ত করিতে পারিবেন না ।
২৬।
লে-অফকৃত শ্রমিকদের মাস্টার রোল।—ধারা ১৭ মোতাবেক লে-অফকৃত
শ্রমিকদের তালিকা ফরম-১০(ক) অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে।
২৭।
ছাঁটাইয়ের নোটিস। ধারা ২০ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) মোতাবেক
শ্রমিককে প্রদত্ত ছাঁটাইয়ের নোটিশে নিম্নবর্ণিত তথ্যসমূহের উল্লেখ থাকিতে হইবে, যথা:—
(ক) প্রতিষ্ঠানের নাম;
(খ)
শ্রমিকের নাম, পদবি ও কার্ড নম্বর;
(গ)
ছাঁটাইয়ের কারণ;
ছাঁটাই কার্যকর হইবার তারিখ;
প্র ভা প্র
মোট চাকরিকাল;
শ্রমিকের প্রাপ্যতা:
(অ) নোটিস পে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
(আ) গ্র্যাচুইটি বা ক্ষতিপূরণ;
২৮।
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
অভোগকৃত বার্ষিক ছুটির মজুরি;
৭৩২৯
বকেয়া মজুরি, অন্যান্য ভাতা ও অধিকাল ভাতা (যদি পাওনা থাকে);
এবং
পাওনা পরিশোধের তারিখ ।
চাকরি হইতে ডিসচার্জ।—–(১) ধারা ২২ এ বর্ণিত রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক
শ্রমিকের অক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র ফরম-১১ অনুযায়ী হইতে হইবে এবং উহার একটি কপি সংশ্লিষ্ট
শ্রমিককেও সরবরাহ করিতে হইবে।
(২) রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রদান করা প্রত্যয়নে শ্রমিক অথবা মালিক সন্তুষ্ট না হইলে
তিনি উহা প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা করিবার জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজের
অন্যূন সহকারী অধ্যাপকের পদমর্যাদাসম্পন্ন কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট পেশ করিতে পারিবেন
এবং উক্ত পুনঃপরীক্ষার খরচ আবেদনকারীকে বহন করিতে হইবে।
২৯।
অসদাচরণ এবং দণ্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি।- (১) কোন শ্রমিকের কোন আচরণ বা
কাজ অসদাচরণ কিনা উহা যাচাই করিবার উদ্দ্যেশ্যে মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা
যদি ধারা ২৪ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) অনুসারে কোন প্রকার কৈফিয়ত তলব করেন এবং
তদ্প্রেক্ষিতে শ্রমিক কর্তৃক প্রদত্ত জবাব-
(৩)
(৫)
(ক)
সন্তোষজনক হইলে অভিযোগ নিষ্পত্তি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই
বিষয়টি শ্রমিকের পরবর্তী চাকরির ক্ষেত্রে কোন প্রকার প্রভাব ফেলিবে না ;
সন্তোষজনক না হইলে মালিক শাস্তি প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য ব্যবস্থাপক বা
তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্ত কার্যক্রম
সম্পন্ন করিয়া তাহার নিকট ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করিতে
নির্দেশ প্রদান করিবেন।
অনধিক ৬ জন সদস্য সমন্বয়ে উক্ত তদন্ত কমিটি গঠিত হইবে।
তদন্ত কমিটি উপ-কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
উপ-কমিটির রিপোর্ট চূড়ান্তকরণের জন্য তদন্ত কমিটির নিকট পেশ করিবে।
তদন্ত কমিটি উহার তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তের জন্য কর্তৃপক্ষের
বরাবরে প্রেরণ করিবে।
(৬)
তদন্ত কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
কর্তৃক উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইবেন ।
(৭) তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি, অভিযুক্ত শ্রমিকের লিখিত প্রস্তাবক্রমে
উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নিম্নপদের কাউকে প্রতিনিধি মনোনয়ন করা যাইবে নাঃ
৭৩৩০
বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
আরও শর্ত থাকে যে, ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (৪) এর দফা (খ) ও (ছ) এর অধীন কোন
শ্রমিক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনীত হইলে অভিযুক্ত শ্রমিক বা কর্মচারী ইচ্ছা করিলে তাহার
প্রতিনিধি হিসাবে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড ইউনিয়ন (যদি থাকে) এর কোন সদস্য অথবা ট্রেড ইউনিয়ন না
থাকিলে অংশগ্রহণকারী কমিটির কোন শ্রমিক প্রতিনিধিকে তাহার প্রতিনিধি হিসাবে মনোনয়ন করিতে
পারিবে।
(৮) শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন অথবা দৈনন্দিন
কাজের ব্যঘাত না ঘটাইয়া এবং সম্পদ হানি না করিয়া কোন নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনাকে
ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (৪) এর দফা (ছ) এ উল্লিখিত উচ্ছৃঙ্খলতা বুঝাইবে না ।
৩০ । অসদাচারণের শাস্তি হিসাবে জরিমানা সম্পর্কে বিশেষ বিধান। ধারা ২৫ এর
বিধান মোতাবেক জরিমানা ফরম-১২ অনুযায়ী একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং ব্যয়িত
অর্থের ভাউচার বা রসিদ রেজিস্টারের সহিত সংযুক্ত করিয়া রাখিতে হইবে ।
৩১। চাকরির প্রত্যয়নপত্র। ধারা ৩১ মোতাবেক চাকরি অবসান বা সমাপ্তির ক্ষেত্রে
শ্রমিকের আবেদনের ১৫(পনের) দিনের মধ্যে তাহাকে ফরম-১৩ অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিতে
হইবে।
৩২।
অনুযায়ী মালিক ও শ্রমিক সম্পর্ক হইবে নিম্নরূপ, যথা:–
নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয় বা ক্ষতির কারণে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক। ধারা ২৮ক
(ক)
কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হইবার ক্ষেত্রে:
(অ) আকষ্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয় বা জরুরি
প্রয়োজনে মালিক কর্তৃক মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে
(৩) তিন কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ফরম-১০ অনুযায়ী যাবতীয় তথ্যাদি
অবহিত করিতে হইবে;
(আ) মালিক শ্রমিকদেরকে ছাঁটাই করিবেন এবং আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ
করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায়
চালু হইবার সম্ভবনা থাকিলে মালিক কারখানা বা প্রতিষ্ঠান লে-অফ ঘোষণা
করিতে পারিবেন ;
কারখানা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হইবার সময় পর্যন্ত শ্রমিক পূর্ণ মজুরিতে কর্মরত
ছিলেন বলিয়া গণ্য হইবেন;
শ্রমিককে মালিক তাহার অধীন একই ধরনের অন্য প্রতিষ্ঠানে সমপদে কাজে
নিয়োজিত করিতে চাহিলে দফা (খ)-তে বর্ণিত বিধান প্রযোজ্য হইবে;
স্থায়ীভাবে বন্ধ না করিয়া মালিক ইচ্ছা করিলে ধারা ১২ মোতাবেক কাজ বন্ধ
রাখিতে পারিবেন এবং সেই ক্ষেত্রে শ্রমিক ধারা ১৬ মোতাবেক লে-অফ
বেনিফিট প্রাপ্য হইবেন;
Comments
Post a Comment