গোসলের আদাব
বিসমিল্লাহ
গোসলের আদাব
১. গোসল করার সময় পর্দা-আড়ালের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখব।
২. খোলা জায়গায় লোকচক্ষুর সামনে গোসল করলে, লুঙ্গি-পাজামা ভালো করে বেঁধে রাখব। লুঙ্গি-পাজামা সাদা পাতলা কাপড়ের হলে, উপরে গামছাজাতীয় কিছু পেঁচিয়ে নিবো।
৩. গোসলখানায় বাম পা দিয়ে ঢুকব।
৪. গোসলের আগে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান ভালোভাবে ধুয়ে নিবো। শরীরের কোথাও নাপাকি লেগে থাকলে, সেটাও বামহাত দিয়ে পরিষ্কার করব।
৫. গোসলের আগে নামাজের ওজু করে নিতে পারি। তবে, গোসলের সময় ওজুর অঙ্গগুলো বাড়তি যত্নে ধুলে নিলে ওজুর সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।
৬. ওজু-গোসলে ব্যবহৃত পানিতে পা ডুবে থাকলে, ওজু-গোসলশেষে সেখান থেকে একটু সরে গিয়ে পা ধুয়ে নিবো। ব্যবহৃত পানিতে পা ডুবে না থাকলে, আলাদা করে পা ধোয়ার দরকার নেই।
৭. প্রথমে মাথায় পানি ঢালব, তারপর ডানকাঁধে, তারপর বামকাঁধে। এমনভাবে পানি ঢালব, যাতে পানি মাথা থেকে পা পযন্ত গড়িয়ে যায়।
৮. পুরো শরীর ভালোভাবে মলে নিবো, যাতে কোথাও শুকনো থেকে না যায়।
৯. শরীরে তিনবার পানি ঢালব। সাবান-শ্যাম্পু ব্যবহার করলে, ভালোকরে শরীর ধুয়ে নিবো।
১০. বস্ত্রবিহীন শরীর নিয়ে কেবলামুখি হবো না।
১১. পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হবো। প্রয়োজনের চেয়ে কম বা বেশি খরচ করব না।
১২. আংটি, চুড়ি, বালা, কাঁকন ইত্যাদি আঁটসাঁট হয়ে থাকলে, সেগুলো নাড়া দিয়ে নিচে পানি পৌঁছানো আবশ্যক।
১৩. গোসল করাকালে কোনো ধরণের দোয়া-জিকির উচ্চারণ করব না।
১৪. গোসল চলাকালে বিনা প্রয়োজনে কথাবার্তা না বলা উত্তম।
১৫. গোসল চলাকালে সালাম দেয়ানেয়া অনুচিত।
১৬. গোসল সারার পর পাক কাপড় দিয়ে শরীর মুছে নেয়া উচিত।
১৭. গোসলখানা থেকে ডান পা দিয়ে বের হবো।
১৮. ব্যবহারের পর গোসলখানা পরিষ্কার করে বের হব।
১৯. যৌথ গোসলখানায় সাবানের টুকরা, সাবানের প্যাকেট, শ্যাম্পুর কৌটা, অবাঞ্ছিত চুলপশম, ব্যক্তিগত জামাকাপড় রেখে আসা উচিত নয়।
২০. মলমূত্র ত্যাগ করার পর ভালো করে পানি ঢেলে দুর্গন্ধ দূর করে আসা উচিত।
২১. রেজার, ব্লেড ইত্যাদি আড়ালে রাখা উত্তম। ওয়ানটাইম হলে, সেগুলো উপযুক্ত স্থানে ফেলা উচিত।
Comments
Post a Comment